জিসান ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদে তুমুল বিতর্ক
ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠা জিসান মিয়া প্রধান আসলে বিয়ে এড়াতে নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। তবে এ বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল।
সংসদের বৈঠকের শুরুতে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে কথা বলেন। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের অনুমতি নিয়ে জিসান মিয়া প্রধানের ঘটনা নিয়ে পৃথক একটি বিবৃতি উপস্থাপন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিসানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ কারণে তদন্তে পাওয়া তথ্য সংসদের মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগে এক নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন এবং ওষুধ সংগ্রহ করে দেন বলেও অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান বিয়েতে সম্মতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের আগের রাতে আত্মগোপনে চলে যান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে সংসদে এমন বক্তব্য দেওয়া নজিরবিহীন এবং এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।
তাহের প্রশ্ন তোলেন, বর্তমানে জিসান কোথায় রয়েছেন এবং কেন তার সঙ্গে কিংবা অভিযোগে উল্লেখিত নারীর সঙ্গে কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনাকে ঘিরে একটি নির্দিষ্ট বর্ণনা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তা বাদ দেওয়ার দাবি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা। তাঁর বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো বিষয় থাকলে তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জিসান মিয়া প্রধানকে ঘিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এবং তা নিয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।






