ads

স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে যখন বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করলেন, তখন যেন রিয়াল মাদ্রিদের ঘুম ভাঙল হঠাৎ করেই। স্পেনের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বকাপের দলে নেই রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়! বিষয়টি শুধু পরিসংখ্যান নয়, ক্লাবটির আত্মমর্যাদার প্রশ্নও হয়ে দাঁড়ায়।

এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরই আসে চমক—স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সদস্য মার্ক কুকুরেয়াকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। দলবদল বিশেষজ্ঞ ফাবরিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, এই ট্রান্সফারে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ইউরো। এর মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ইউরো সরাসরি পরিশোধ করা হবে, বাকি ৫ মিলিয়ন পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস।

হুট করেই কেন কুকুরেয়া?

দলবদলের বাজারে সাধারণত আগে গুঞ্জন শোনা যায়, তারপর আসে চূড়ান্ত ঘোষণা। কিন্তু কুকুরেয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। কোনো বড় ধরনের আলোচনা প্রকাশ্যে না এসেই রাতারাতি খবরটি সামনে আসে। আর এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে—রিয়াল কি তাঁকে খেলোয়াড়ি দক্ষতার চেয়ে ‘স্প্যানিশ পরিচয়ের’ জন্য বেশি গুরুত্ব দিল?

কাতালুনিয়া থেকে মাদ্রিদ

মার্ক কুকুরেয়ার ফুটবল বেড়ে ওঠা কাতালুনিয়ায়। এসপানিওল ও পরে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়ায় কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়। তবে বার্সেলোনার মূল দলে সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র এক ম্যাচে। এরপর ধারে খেলে নিজেকে প্রমাণ করেন স্প্যানিশ লিগে, তারপর পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। ব্রাইটনে এক মৌসুম দুর্দান্ত কাটিয়ে ৬৫ মিলিয়ন ইউরোতে যোগ দেন চেলসিতে।

বিশ্বকাপ আর রিয়ালের পুরোনো অভ্যাস

বিশ্বকাপের পর বড় তারকা কেনা রিয়াল মাদ্রিদের পুরোনো রীতি। ক্যানাভারো, ওজিল, হামেস, টনি ক্রুস, কর্তোয়া—সবাই এসেছেন বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে আলো কুড়িয়ে। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। নতুন কোচ জোসে মরিনহোর পরিকল্পনায় বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দল গোছাতে নেমেছে ক্লাবটি।

মরিনহো নাকি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, বাঁ প্রান্তে একজন পরীক্ষিত খেলোয়াড় দরকার। ফারল্যান্ড মেন্ডি চোটে ভোগেন, ফ্রান গার্সিয়া এখনো পুরোপুরি পরিণত নন, আর আলভেরো কারেরাসকে ঘিরে রয়েছে ড্রেসিংরুমে অস্বস্তি। ফলে কুকুরেয়াকে নিরাপদ সমাধান হিসেবে দেখা হয়েছে।

তাহলে কি শুধু স্প্যানিশ বলেই?

সত্যিটা হয়তো মাঝামাঝি কোথাও। কুকুরেয়া একজন অভিজ্ঞ ও বহুমুখী লেফট ব্যাক, যিনি প্রিমিয়ার লিগ ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আবার এটাও অস্বীকার করা যায় না যে স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রিয়াল মাদ্রিদের কেউ না থাকা ক্লাবটির জন্য বিব্রতকর ছিল।

সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের মতো প্রতীকমুখী নেতার কাছে বিষয়টি নিছক কাকতাল নয়। ফলে কুকুরেয়ার ট্রান্সফারে খেলোয়াড়ি প্রয়োজনের পাশাপাশি স্প্যানিশ পরিচয়ের মূল্যও যে ছিল, তা বললে খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবে না।

চেলসির পরিকল্পনায় জায়গা হারানো

অন্যদিকে চেলসিতেও পরিস্থিতি বদলাচ্ছিল। নতুন কোচ জাবি আলোনসো তরুণ ও আক্রমণাত্মক ফুলব্যাক খুঁজছিলেন। সেই পরিকল্পনায় কুকুরেয়া কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। ফলে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সুযোগটা তৈরি হয় ঠিক সময়েই।

সব মিলিয়ে কুকুরেয়ার ট্রান্সফারকে শুধু “স্প্যানিশ বলে কিনেছে” বলে ব্যাখ্যা করা সহজ হলেও, এর পেছনে আছে মরিনহোর কৌশল, রিয়ালের আত্মসম্মান, স্কোয়াডের ভারসাম্য এবং বাজারের সঠিক সময় বেছে নেওয়ার হিসাবও।

 

আরও খবর