ads

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস অবশেষে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির কাছে তিন নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর বিতর্কিত বন্ধুত্ব নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার জবানবন্দিতে এই বিস্ফোরক তথ্য দেন তিনি। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটি এই সাক্ষ্যের একটি অনুলিপি প্রকাশ করার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

কমিটিকে দেওয়া সাক্ষ্যের শুরুতে বিল গেটস রুশ ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনার সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেন। কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসা-উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোদতের সঙ্গে তাঁর তৃতীয় সম্পর্কের কথাটি প্রকাশ করেন।

গেটসের দাবি, ২০১১ সালে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হওয়ার আগেই অ্যালিসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের কথা এপস্টেইন কীভাবে জেনেছিলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন গেটস। জবানবন্দিতে গেটস ইঙ্গিত দেন, এই গোপন সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে এপস্টেইন তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিলেন, যদিও সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

বিল গেটস বরাবরের মতোই দাবি করেছেন যে, এপস্টেইনের কোনো যৌন নিপীড়নের ঘটনা তিনি নিজের চোখে দেখেননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, অজান্তেই হয়তো তিনি কোনো কোনো ভুক্তভোগীর কাছাকাছি গিয়ে থাকতে পারেন। কারণ এপস্টেইনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু নারী ও কিশোরী পরবর্তীতে তাঁর নির্যাতনের শিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানোকে একটি বড় 'ভুল' হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই ধনকুবের।"আমি কখনোই এপস্টেইনের কোনো নিপীড়নের ঘটনা দেখিনি। তবে তাঁর সঙ্গে সময় কাটানোটা আমার জীবনের একটি মস্ত বড় ভুল ছিল।" — বিল গেটস

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত কিছু গোপন নথি প্রকাশ করা শুরু করে। সেখানে ২০১৩ সালের একটি চিঠিতে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন— রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের পর বিল গেটস একটি যৌনবাহিত রোগে (এসটিডি) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসকে গোপনে দেওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ চেয়েছিলেন।

এই অভিযোগের বিষয়ে রুদ্ধদ্বার জবানবন্দিতে বিল গেটস বলেন, কোনো এক সম্পর্কের কারণে তিনি সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন ঠিকই, তবে এপস্টেইনের চিঠির দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর কখনোই কোনো যৌনবাহিত রোগ ছিল না বলে তিনি জোর দাবি জানান।

এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগ যখন এই ই-মেইলগুলো প্রকাশ করেছিল, তখন গেটসের নাম কালো কালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। তবে এবারের শুনানিতে কংগ্রেস সদস্যরা সরাসরি বিল গেটসকে সেই আসল ই-মেইলগুলো দেখালে তিনি সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হন।

আরও খবর