ads

বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ গত মার্চ মাস শেষে দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ২২৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিপুল এই ঋণের কারণে আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের দায় আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মোট বিদেশি ঋণের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল বা সহজ শর্তের ঋণ এবং ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ।

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের পর থেকে বৈদেশিক ঋণের কনসেশনাল সুবিধা ধীরে ধীরে কমে আসছে। একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ঋণ ও প্রকল্প প্রস্তাব নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে উচ্চ সুদের ঋণে অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেবল উচ্চ অর্থনৈতিক সুফলসম্পন্ন প্রকল্পের জন্যই বৈদেশিক ঋণ বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি ঋণে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে নিবিড় তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল (মিডিয়াম টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি) হালনাগাদের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই ও সহনশীল করতে ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস (ডিএসএ) পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে শিগগিরই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করা হবে।

আরও খবর