ads

প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কার যেমন আশীর্বাদ তেমনি দুস্টচক্র এই প্রযুক্তির অব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের কস্টারজিত অর্থ। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ইদানিং হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করার মাধ্যমে দুস্ট চক্রের প্রতারনার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। নর্থাম্পটনের ব্রিটিশ বাংলাদেশীরা তার ব্যতিক্রম নয়।

হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকের মাধ্যমে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে ব্রিটিশ বাংলাদেশী অনেকের কাছ থেকে পাউন্ড হাতিয়ে নিচ্ছে সঙ্ঘবদ্ধ হ্যাকার গ্রুপ । এ ধরনের প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক।

একটি প্রতারক চক্র কৌশলে পিন কোড হাতিয়ে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। আবদুল কাইয়ুম তার হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক যেভাবে হয়েছে তা বললেন এভাবে, হটাৎ একদিন সকালে আমার মোবাইলে একটি ফোন কল আসে। আমি ব্যস্ত থাকায় ফোন ধরতে পারিনি। পরে আবার আবার ফোন করলে আসলে আমি ধরে ফেলি। তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, আপনি আজ বিকালে একটি ইসলামীক গ্রুপে যোগ দিবেন। যোগ দিলে আপনার লাভ হবে, দুনিয়া আখেরাতে সোয়াব পাবেন। তখন আমি বলি পারবো না। আমি ব্যস্ত। তখন তারা আমাকে বলে তাহলে আপনার মোবাইলে একটি ৬ নাম্বারে একটি পিন কোড এসেছে। এটা আমাদের দাও। নেকি হবে, সেটা দেওয়ার সাথে সাথে আমার হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হয়ে যায়। আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমি যেভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। আর যাতে কেউ এই প্রতারণার শিকার না হোন। দয়া করে কেউ পিন কোড আসলে কাউকে দিবেন না। দিলে আপনার মোবাইল হ্যাক হয়ে যাবে। প্রতারণার শিকার আসকির মিয়া বলললেন, একদিন আমার বন্ধুর

হোয়াটসঅ্যাপ থেকে আমাকে বলা হয় আমাকে সাহায্য করতে পারবেন নি? তখন আমি বলললাম, কি সাহায্যে করতে পারি। তখন বলা হলো আমাকে ৭০০ পাউন্ড এখন দিতে পারবেন নি? আমি কাল কেশ দিয়ে দিবো। তখন আমি ভাবলাম জীবনেও আমার বন্ধু টাকা,পয়সা খুঁজে না। হয়তো লজ্জায় ফোনও করে নি আমার কাছে। তাই দিয়ে দিলাম। ৭০০ পাউন্ড দেওয়ার পর আবার খুঁজে ৬০০পাউন্ড। তখন আমার সন্দেহ হয়। তার পর আমার বন্দুর কাছে ফোন করি। তিনি বলেন আমার হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হয়েছে। আমাকে না বলে কেন ৭০০ পাউন্ড দিলেন। আমার মতো আর কেউ যে এই প্রতারক চক্রের ফাদে পা না দেন।

কমিউনিটির বিশিষ্ট জনরা মনে করেন, এই চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট এ কে এম আবু তাহের চৌধুরী বলেন, হ্যাকারদের প্রতারণা : ইমু হ্যাকিংএর পর এখন হোয়াটস আপ হ্যাকিং করে প্রতারকরা হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ।

২৭ মে রাতে আমাকে একজন কমিউনিটি নেতা ফোন করে জানতে চাইলেন যে- একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে তিনি হোয়াটস আপ ম্যাসেজ পেয়েছেন ৯০০ পাউণ্ড দেওয়ার জন্য ।তিনি দিতে চান কিন্তু এই সাংবাদিক বিশ্বস্ত কিনা? আমি তাকে বললাম -এ ম্যাসেজ সঠিক নয়। সাংবাদিকের হোয়াটস আপ হ্যাকিং হয়েছ । তখন তিনি বুঝতে পারলেন এটা প্রতারকদের কাজ ।

আজ সারা দিন ধরে আমি ‘ what’s up caller’ এর কাছ থেকে ৭টি কল পেয়েছি । আমি কল ধরিনি । এ পোস্ট লেখার সময়ও কল এসেছে আমি ধরিনি । ফোন ধরলেই হ্যাক করতে পারে বা কোন কোড নম্বর দিয়ে তা আমার কাছ থেকে জেনে ফোন হ্যাক করে ফেলবে ।

একজন মহিলা সাংবাদিক ও একজন শিক্ষকের কাছ থেকে ৯০০পাউণ্ড দেওয়ার জন্য হোয়াটস আপে ম্যাসেজ আসে । আমি তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানান যে, তাদের হোয়াটস আপ হ্যাকড হয়েছে ।অনেক কষ্টে তারা কন্ট্রোলে নিয়েছেন । আমি হোয়াটস আপে একাউন্ট নাম্বার চাইলে -Sahina Adim নামে একজনের একাউন্ট নম্বর ও সর্ট কোড দেয়।

দয়া করে আপনারা কেউ হ্যাকারদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিবেন না ।কেউ ফোন করে কোন কোড নম্বর দিয়ে তা বলার অনুরোধ করলে বা কোন ডনার গ্রূপের সাথে যুক্ত করতে চাইলে শরীক হবেন না। তাদের ম্যাসেজ সংযুক্ত করলাম । এগুলো ফেইক ও মিথ্যা । Am trying to send £900 to someone it not going through I don't know if you can help me send to the person details I will definitely make refund to you tomorrow morning insha Allah .

পুলিশের পক্ষ থেকে ও লিফটেট বিতরণ করা হচ্ছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছে পুলিশ।

আরও খবর