ads

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘গণ অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শ্রমিকদের দাবির আড়ালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্ট শিল্প সরকার কোনো অবস্থায় ধ্বংস হতে দেবে না। এ শিল্পে লাখ লাখ ভাই-বোন ও মায়েরা কাজ করছেন। এ শিল্পে তাঁদের কর্মস্থান হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘কোনো শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনো শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে পারেন না। বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা করবেন না।’ গতকাল দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্যদানকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের উচিত জবাব দেবে। আমরা সব শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী ও শ্রমিক ভাই-বোনদের নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে দেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবিদাওয়া রয়েছে, তা সরকার জানে। তাদের দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মজুরি বোর্ড কাজও শুরু করেছে। ইনশাল্লাহ, আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে; যাতে শ্রমিক ভাই-বোনেরা ভালো থাকতে পারেন।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরেও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছিল।’

বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মোংলা বন্দরে ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ৪ হাজার ৯০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় বন্দরে আগামী চার বছরের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় দুটি আধুনিক জেটি, লোডেট কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক কনটেইনার ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ সড়ক, প্রশাসনিক ভবন ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন নির্মাণ এবং ৪৯টি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ঘণ্টায় ৩০টিতে উন্নীত হবে। বছরে তা ৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতায় পৌঁছাবে। প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে গত ১০ অক্টোবর প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাকি টাকার জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল বেলা ১১টায় মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নৌপরিবহন সচিব মো. আতাউর রহমান খান, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, চীনের সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধি সং ইয়াং, চায়না প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসির চেয়ারম্যান লি চং ইয়াং উপস্থিত ছিলেন।

মাজার জিয়ারত : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুরে বাগেরহাট শহরতলিতে হজরত খানজাহান (রহ)-এর মাজার জিয়ারত করেন।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (দ্বিতীয় আসর) উদ্বোধন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করেছেন। গতকাল বিকাল পৌনে ৪টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অনলাইনেও দেশের ৫০৩ উপজেলায় নতুন কুঁড়ির দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন।

মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোংলাকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ আহ্বান জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।’ মধ্যপ্রাচ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোয় বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এদিকে মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বাবা মিছিলে, গুলিতে নিহত ছেলে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে মিছিল নিয়ে খুলনার জিরোপয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিলেন ডুমুরিয়ার ১২নং রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম শেখ। মিছিলে স্লোগানে ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূলের এ নেতা। আর তখনই গতকাল বেলা ২ টার দিকে আমভিটা-রামকৃষ্ণপুর জোড়া বটতলা এলাকায় তার ছেলে তরিকুল ইসলামকে (৩৮) গুলি করে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় একটি চায়ের  দোকানের ভিতরে ঢুকে তাঁকে গুলিতে হত্যা করা হয়। ছেলেকে হত্যার খবর পেয়ে ফেরেন আবদুস সালাম। স্থানীয়রা জানায়, তরিকুলেরও মিছিলে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু পরিচিত দুই যুবক তার সঙ্গে দেখা করতে এলে তিনি থেকে যান। ওই দুই যুবকের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে কথা বলেন তরিকুল। তাদের জন্য সিগারেট কিনতে একজনকে পাশের দোকানেও পাঠান। এরপরই গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তরিকুলের মৃত্যু হয়।

মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবকের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। ঘটনাস্থলে এসে তারা তরিকুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায়, মাদক কারবার ও সরকারি খাল দখল নিয়ে একটি পক্ষের সঙ্গে তরিকুলের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাল-সাদা টি-শার্ট ও থ্রি কোয়ার্টার হাফ প্যান্ট পরিহিত তরিকুলের লাশ চায়ের দোকানে মেঝেতে পড়ে আছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেলের মর্গে পাঠিয়েছে।

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় তরিকুল একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। দুর্বৃত্তরা সেখানে ঢুকে তাঁকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

আরও খবর